জেনেরিক ওষুধ

Ornidazole: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Ornidazole একটি নাইট্রোইমিডাজল গ্রুপের ওষুধ, যার অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (অ্যানেরোবিক-বিরোধী) কার্যকারিতা রয়েছে।

ধরন:Tablet

Ornidazole সম্পর্কে

Ornidazole-এর নির্দেশনা

Ornidazole একটি নাইট্রোইমিডাজল গ্রুপের ওষুধ, যার অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (অ্যানেরোবিক-বিরোধী) কার্যকারিতা রয়েছে। প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী এর ব্যবহার নিম্নরূপ ভাগ করা যায়:

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • অন্ত্রের অ্যামিবিয়াসিস (অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি), যা Entamoeba histolytica দ্বারা সৃষ্ট
  • অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস
  • জিয়ার্ডিয়াসিস (Giardia সংক্রমণ)
  • ট্রাইকোমোনিয়াসিস - যৌনবাহিত সংক্রমণ; আক্রান্ত রোগী ও তার সঙ্গী উভয়কেই সাধারণত চিকিৎসা দেওয়া হয়
  • অ্যানেরোবিক জীবাণু সংক্রান্ত ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস
  • সংবেদনশীল অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ (পেটের ভেতরের, পেলভিক বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সংক্রমণসহ), সাধারণত মিশ্র সংক্রমণে অন্য ওষুধের সাথে সংযুক্তভাবে

সহায়ক / প্রতিরোধমূলক ব্যবহার

  • অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অ্যানেরোবিক সংক্রমণ প্রতিরোধে অস্ত্রোপচার-পূর্ব প্রফিল্যাক্সিস হিসেবে একক মাত্রায় ব্যবহার

Ornidazole যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত বা বিপণিত নয়, তাই এর কোনো FDA লেবেল নেই; উপরের নির্দেশনাগুলো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা-অনুশীলন এবং গাইডলাইন-সমর্থিত ব্যবহারের প্রতিফলন।

Ornidazole-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Ornidazole-এর মাত্রা সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দেশনা, সংক্রমণের তীব্রতা, রোগীর বয়স, ওজন এবং কিডনি/লিভারের কার্যক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। সাধারণ নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:

নির্দেশনাপ্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রাশিশুদের মাত্রাসাধারণ মেয়াদ
অন্ত্রের অ্যামিবিয়াসিস৫০০ মিগ্রা দিনে দুইবার২৫-৪০ মিগ্রা/কেজি/দিন বিভক্ত মাত্রায়৫-৭ দিন
অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস৫০০ মিগ্রা দিনে দুইবার২৫-৪০ মিগ্রা/কেজি/দিন বিভক্ত মাত্রায়৫-১০ দিন
জিয়ার্ডিয়াসিসএকক ১.৫ গ্রাম মাত্রা, অথবা ৫০০ মিগ্রা দিনে দুইবার৪০ মিগ্রা/কেজি একক মাত্রায়১-২ দিন
ট্রাইকোমোনিয়াসিস / ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসএকক ১.৫ গ্রাম মাত্রা, অথবা ৫০০ মিগ্রা দিনে দুইবার; সঙ্গীকেও একইসাথে চিকিৎসা দিতে হবেসাধারণত প্রযোজ্য নয়১-৫ দিন
অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ৫০০-১০০০ মিগ্রা প্রতি ১২ ঘণ্টায় (মুখে বা শিরায়), সাধারণত বায়বীয় জীবাণু-বিরোধী ওষুধের সাথেওজন অনুযায়ী নির্ধারিত; বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজনপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ৫-১০ দিন
অস্ত্রোপচার প্রফিল্যাক্সিসঅস্ত্রোপচারের ৩০-৬০ মিনিট আগে ৫০০-১০০০ মিগ্রা শিরায় একক মাত্রাসাধারণত প্রযোজ্য নয়একক মাত্রা (কখনো অস্ত্রোপচার-পরবর্তী আরও ১-২ মাত্রা)

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ: চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Ornidazole সম্পূর্ণ কোর্স সেবন করুন; লক্ষণ কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না, মাত্রা বাড়াবেন না, কোনো ডোজ বাদ দেবেন না, এবং অন্য কাউকে এই ওষুধ দেবেন না।

লিভারের সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়ের জন্য "সতর্কতা" অংশ এবং কিডনি সমস্যা/বয়স্কদের জন্য "শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার" অংশ দেখুন।

Ornidazole-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Ornidazole-এর বেশিরভাগ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মৃদু ও সাময়িক। রিপোর্ট করা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

সাধারণ

  • বমি বমি ভাব, বমি, পেটে অস্বস্তি
  • মুখে ধাতব বা তেতো স্বাদ
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি

কম সাধারণ

  • ডায়রিয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ-মাত্রার চিকিৎসায় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (ঝিনঝিন, অসাড়তা) — বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন
  • ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি

বিরল কিন্তু গুরুতর

  • অতি-সংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া, অ্যাঞ্জিওএডিমাসহ
  • লিউকোপেনিয়া (সাধারণত ওষুধ বন্ধ করলে সেরে যায়)
  • খিঁচুনি বা সাময়িক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা (প্রধানত উচ্চ-মাত্রা বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায়)

গুরুতর র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ/কালশিটে, বা ক্রমাগত অসাড়তা/ঝিনঝিন অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Ornidazole-এর প্রতিনির্দেশনা

Ornidazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত (contraindicated):

  • Ornidazole বা অন্য নাইট্রোইমিডাজল গ্রুপের ওষুধের (যেমন মেট্রোনিডাজল, টিনিডাজল) প্রতি পরিচিত অতি-সংবেদনশীলতা
  • গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক
  • রক্তের রোগের (blood dyscrasia) পূর্ব ইতিহাস
  • দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ-মাত্রার চিকিৎসা বিবেচনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয় জৈব রোগ (যেমন মৃগীরোগ)

Ornidazole সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Ornidazole কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Ornidazole অন্ত্রের অ্যামিবিয়াসিস (অ্যামিবিক ডিসেন্ট্রি), অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস, জিয়ার্ডিয়াসিস এবং ট্রাইকোমোনিয়াসিসের মতো প্রোটোজোয়া সংক্রমণ এবং অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিছু অস্ত্রোপচারের আগে অ্যানেরোবিক সংক্রমণ প্রতিরোধেও একক মাত্রায় ব্যবহার করা হয়।

Ornidazole সেবনকালে মদ্যপান করা যাবে কি?

না। Ornidazole সেবনকালে এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে ৩ দিন মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে ডিসালফিরামের মতো প্রতিক্রিয়া (মুখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন) হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় Ornidazole কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে Ornidazole প্রতিনির্দেশিত। পরবর্তী ত্রৈমাসিকে চিকিৎসক সুস্পষ্ট প্রয়োজন মনে করলে এবং উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে Ornidazole সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভালো লাগলে কি Ornidazole বন্ধ করে দেওয়া যাবে?

না। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Ornidazole এর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা উচিত, লক্ষণ আগে কমে গেলেও। কোর্স মাঝপথে বন্ধ করা, ডোজ বাদ দেওয়া, বা অন্য কাউকে ওষুধ দেওয়া সংক্রমণ পুনরায় ফিরে আসার কারণ হতে পারে, তাই সবসময় সম্পূর্ণ কোর্স মেনে চলুন।

Ornidazole-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, বমি, মুখে ধাতব বা তেতো স্বাদ, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ঝিমুনি। এগুলো সাধারণত মৃদু ও সাময়িক। গুরুতর র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, বা ক্রমাগত অসাড়তা/ঝিনঝিন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শিশুদের ক্ষেত্রে Ornidazole কি নিরাপদ?

শিশু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ওজন-ভিত্তিক মাত্রায় শিশুদের অ্যামিবিয়াসিস ও জিয়ার্ডিয়াসিসের চিকিৎসায় Ornidazole ব্যবহার করা যায়। খুব ছোট শিশু ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তাই শুধুমাত্র সুস্পষ্ট প্রয়োজনে এবং নিবিড় চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles