জেনেরিক ওষুধ

Osimertinib: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Osimertinib হলো একটি তৃতীয় প্রজন্মের ইজিএফআর (EGFR) টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর, যা নির্দিষ্ট ইজিএফআর মিউটেশনযুক্ত নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

ধরন:Tablet

Osimertinib সম্পর্কে

Osimertinib-এর নির্দেশনা

Osimertinib হলো একটি তৃতীয় প্রজন্মের ইজিএফআর (EGFR) টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর, যা নির্দিষ্ট ইজিএফআর মিউটেশনযুক্ত নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্রমাণিত/অনুমোদিত নির্দেশনা

  • প্রথম সারির চিকিৎসা: এক্সন ১৯ ডিলিশন বা এক্সন ২১ L858R মিউটেশনযুক্ত মেটাস্ট্যাটিক NSCLC-তে একক ওষুধ হিসেবে Osimertinib ব্যবহৃত হয়।
  • সংযুক্ত (কম্বিনেশন) থেরাপি: একই ধরনের মেটাস্ট্যাটিক NSCLC-তে পেমেট্রেক্সেড ও প্ল্যাটিনাম-ভিত্তিক কেমোথেরাপির সাথে সংযুক্তভাবে Osimertinib ব্যবহার করা হয় (এই নির্দেশনায় সংযুক্ত থেরাপি আবশ্যক)।
  • সহায়ক (অ্যাডজুভেন্ট) চিকিৎসা: টিউমার অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক পর্যায়ের ইজিএফআর-মিউটেশনযুক্ত NSCLC-তে Osimertinib দেওয়া হয়।
  • স্টেজ III (অ-অপারেবল) NSCLC: কেমোরেডিয়েশনের পর যেসব রোগীর রোগ অগ্রসর হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে Osimertinib ব্যবহৃত হয়।
  • দ্বিতীয় সারির নির্দিষ্ট-মিউটেশন চিকিৎসা: পূর্ববর্তী ইজিএফআর টিকেআই থেরাপির পর রোগ অগ্রসর হলে, T790M মিউটেশন-পজিটিভ মেটাস্ট্যাটিক NSCLC-তে Osimertinib ব্যবহৃত হয়।

সব নির্দেশনার ক্ষেত্রেই চিকিৎসা শুরুর আগে অনুমোদিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইজিএফআর মিউটেশন নিশ্চিত করা আবশ্যক, কারণ Osimertinib একটি বায়োমার্কার-নির্দেশিত লক্ষ্যভিত্তিক থেরাপি।

Osimertinib-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

সাধারণ মাত্রা

Osimertinib-এর প্রস্তাবিত মাত্রা হলো প্রতিদিন একবার মুখে ৮০ মিগ্রা, খাবারসহ বা খাবার ছাড়া, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে গ্রহণ করা উচিত। চিকিৎসার সময়কাল নির্দেশনার উপর নির্ভর করে (নিচে সময়কাল দেখুন)।

নির্দেশনাপ্রস্তাবিত মাত্রা
প্রথম সারির মেটাস্ট্যাটিক NSCLC (একক বা কেমোথেরাপির সাথে সংযুক্ত)দিনে একবার ৮০ মিগ্রা
অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সহায়ক থেরাপিদিনে একবার ৮০ মিগ্রা
কেমোরেডিয়েশনের পর স্টেজ III (অ-অপারেবল)দিনে একবার ৮০ মিগ্রা
T790M-পজিটিভ মেটাস্ট্যাটিক NSCLCদিনে একবার ৮০ মিগ্রা

মাত্রা পরিবর্তন

QT দীর্ঘায়ন বা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাত্রা কমিয়ে দিনে ৪০ মিগ্রা করা যেতে পারে। শক্তিশালী CYP3A4 ইনডিউসার একসাথে ব্যবহার এড়ানো না গেলে, ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে মাত্রা বাড়িয়ে দিনে ১৬০ মিগ্রা করা যেতে পারে।

বৃক্ক ও যকৃতের সমস্যায়

মৃদু থেকে মাঝারি বৃক্ক বা যকৃতের সমস্যায় মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। গুরুতর বৃক্ক/যকৃত সমস্যায় তথ্য সীমিত, তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

মাত্রা মিস হলে

১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেলে মিস হওয়া মাত্রা বাদ দিয়ে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে স্বাভাবিক মাত্রা গ্রহণ করতে হবে।

সেবনবিধি

Osimertinib ট্যাবলেট পুরোটা পানির সাথে গিলে খেতে হবে, ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো যাবে না। গিলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৬০ মিলি সাধারণ (কার্বনেটেড নয়) পানিতে গুলে সাথে সাথে খাওয়া যেতে পারে।

Osimertinib-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Osimertinib সেবনের ফলে নিম্নলিখিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দিতে পারে:

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • ডায়রিয়া
  • র‍্যাশ ও শুষ্ক ত্বক
  • নখের সমস্যা (প্যারোনিকিয়াসহ)
  • স্টোমাটাইটিস (মুখের ঘা/প্রদাহ)
  • ক্লান্তি
  • মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথা
  • রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা: শ্বেত রক্তকণিকা হ্রাস, লিম্ফোপেনিয়া, নিউট্রোপেনিয়া, প্লেটলেট হ্রাস, রক্তস্বল্পতা

গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন)

  • ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ (ILD)/নিউমোনাইটিস: গুরুতর এমনকি প্রাণঘাতী হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, কাশি বা জ্বরের মতো নতুন বা বেড়ে যাওয়া লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • QT ব্যবধান দীর্ঘায়ন: হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা হতে পারে; বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার লক্ষণ থাকলে তাৎক্ষণিক জানান।
  • কার্ডিওমায়োপ্যাথি (হৃদপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাওয়া): শ্বাসকষ্ট, পা/গোড়ালি ফুলে যাওয়া, বা ক্লান্তি হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।
  • কেরাটাইটিস (চোখের প্রদাহ): চোখে ব্যথা, লালভাব, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, ঝাপসা দৃষ্টি বা অতিরিক্ত পানি পড়া হতে পারে; দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে হবে।

Osimertinib-এর প্রতিনির্দেশনা

Osimertinib বা এর কোনো উপাদানের প্রতি জানা গুরুতর অতিসংবেদনশীলতা (হাইপারসেনসিটিভিটি) থাকলে এই ওষুধ প্রতিনির্দেশিত।

Osimertinib সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Osimertinib কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Osimertinib নির্দিষ্ট ইজিএফআর মিউটেশনযুক্ত (এক্সন ১৯ ডিলিশন, L858R বা T790M) নন-স্মল সেল ফুসফুস ক্যান্সার (NSCLC) রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম সারির চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সহায়ক থেরাপি, কেমোরেডিয়েশনের পর ব্যবহার, এবং পূর্ববর্তী ইজিএফআর-লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধে রোগ অগ্রসর হওয়ার পর ব্যবহার।

Osimertinib শুরুর আগে কি জিনগত পরীক্ষা করাতে হবে?

হ্যাঁ। Osimertinib শুরু করার আগে অনুমোদিত পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারে নির্দিষ্ট ইজিএফআর মিউটেশন নিশ্চিত করা আবশ্যক, কারণ এটি শুধুমাত্র এসব মিউটেশনযুক্ত ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর।

Osimertinib-এর সবচেয়ে গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

Osimertinib-এর সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ/নিউমোনাইটিস (ফুসফুসের প্রদাহ, যা গুরুতর বা প্রাণঘাতী হতে পারে), হৃদস্পন্দনের ছন্দে পরিবর্তন (QT দীর্ঘায়ন), হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা হ্রাস (কার্ডিওমায়োপ্যাথি), এবং চোখের প্রদাহ (কেরাটাইটিস)। নতুন শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, পা ফুলে যাওয়া বা চোখের লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে কি Osimertinib ব্যবহার করা যায়?

Osimertinib অনাগত শিশুর ক্ষতি করতে পারে এবং গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; চিকিৎসাকালীন ও শেষ মাত্রার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাকালীন ও এর পরে কিছু সময় স্তন্যদানও সুপারিশ করা হয় না। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সবসময় চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

Osimertinib কীভাবে সেবন করতে হয়?

Osimertinib সাধারণত প্রতিদিন একবার একটি ট্যাবলেট (৮০ মিগ্রা) খাবারসহ বা খাবার ছাড়া, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে মুখে খেতে হয়। ট্যাবলেট পুরোটা গিলে ফেলুন; ভাঙবেন বা চিবাবেন না। গিলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পানিতে গুলে খাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করুন।

মাত্রা মিস হলে বা অতিরিক্ত মাত্রা নিলে কী করব?

১২ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলে মিস হওয়া মাত্রা বাদ দিয়ে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে স্বাভাবিক মাত্রা নিন — দ্বিগুণ মাত্রা নেবেন না। অতিরিক্ত মাত্রা সন্দেহ হলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles